দ্যা ডেইলি এজুখেইশনে বিজ্ঞাপন দিতে কল করুন

+88 01521 20 70 54 (Call for Ad)

সেমস-গ্লোবালের আয়োজনে ২ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ২৫তম টেক্সটাইল সিরিজ অফ এক্সিবিশন্স ২০২৬

গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল শিল্প-সংশ্লিষ্ট মেশিনারি, ইয়ার্ন, ফেব্রিকস, অ্যাকসেসরিজ, ডাইস্টাফ, কেমিক্যালস ও নিত্য-নতুন প্রযুক্তি প্রদর্শনে কনফারেন্স অ্যান্ড এক্সিবিশন ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস – সেমস-গ্লোবাল ইউএসএ এর আয়োজনে ২৫ বছরের ধারাবাহিকতায় আগামী ২-৫ সেপ্টেম্বর, বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার (বাণিজ্যমেলা প্রাঙ্গণ), পূর্বাচল, ঢাকায়, চার দিনব্যাপী শুরু হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘টেক্সটাইল সিরিজ অফ এক্সিবিশন্স’ সংশ্লিষ্ট ‘২৫তম টেক্সটেক বাংলাদেশ ২০২৬ ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো’, ‘২৬তম ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার্ন অ্যান্ড ফ্যাব্রিক শো ২০২৬ - সামার এডিশন’ এবং ‘৫৩তম ডাই + কেম বাংলাদেশ ২০২৬ ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো’।

১৯ আগস্ট, বুধবার, রাজধানী ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে প্রদর্শনীসমূহ আয়োজন সম্পর্কিত একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সেমস-গ্লোবাল, ইউএসএ অ্যান্ড এশিয়া প্যাসিফিকের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর মেহেরুন এন. ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সেমস-গ্লোবালের গ্রুপ সিইও এস. এস. সারওয়ার; সেমস-গ্লোবালের নির্বাহী পরিচালক তানভীর কামরুল ইসলাম এবং সেমস-গ্লোবালের গ্রুপ ডিরেক্টর অভিষেক দাস।

সেমস-গ্লোবাল, ইউএসএ অ্যান্ড এশিয়া প্যাসিফিকের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর মেহেরুন এন. ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে প্রদর্শনীসমূহ আয়োজনের নানাবিধ বিষয় তুলে ধরে বলেন - এই তিনটি প্রদর্শনী বাংলাদেশের গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল শিল্পের সর্ববৃহৎ এবং সর্বপ্রথম অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী, যা বিগত ২৪ বছরের ধারাবাহিকতায় এবছর ২৫ বারের ন্যায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রদর্শনীসমূহ ক্রেতা ও সরবরাহকারীদের জন্য বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সর্ববৃহৎ বিজনেস-টু-বিজনেস (বি-টু-বি) মিটিং প্লেস, যেখানে ব্যবসার প্রসারে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে ক্রেতা এবং সরবরাহকারীরা কাজ করতে পারবেন।

প্রদর্শনীসমূহ বিদেশি ও দেশি সরবরাহকারী, ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের সর্ববৃহৎ মিলনমেলা হওয়াতে - বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের দেশের বাইরে গিয়ে ক্রেতা অনুসন্ধান বা ভিসা জটিলতা পোহাতে হবে না। বরং, অর্থ, শ্রম ও সময়ের সাশ্রয়ে গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল শিল্প সংশ্লিষ্ট ক্রেতা এবং সরবরাহকারীরা এক ছাদের নিচে একত্রিত হতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল শিল্পে বাংলাদেশের সুদীর্ঘ ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখতে, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং বাংলাদেশকে বিজনেস হাব হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে সেমস-গ্লোবালের অনুষ্ঠেয় প্রদর্শনীসমূহ সহায়ক হবে। পাশাপাশি, এ ত্রয়ী প্রদর্শনীতে আগত বিদেশি ক্রেতা ও বিক্রেতার বাংলাদেশ ভ্রমণ, পর্যটন তথা মাইস শিল্পের সম্প্রসারণেও ভিন্ন মাত্রা যুক্ত করবে।

গত ২৫ বছরে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা, পশ্চাৎমুখী সংযোগ শিল্প, উৎপাদনশীলতা, আন্তর্জাতিক মান ও নিয়ম মেনে চলা এবং টেকসই উৎপাদনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এই পরিবর্তনের ধারায় টেক্সটাইল সিরিজ বাংলাদেশের উৎপাদন শিল্প এবং বৈশ্বিক টেক্সটাইল সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছে। সময়ের সঙ্গে এটি একটি সাধারণ প্রদর্শনী থেকে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ - বার্ষিক ব্যবসায়িক মিলনমেলা ও আন্তর্জাতিক বি-টু-বি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।

২৫তম টেক্সটেক বাংলাদেশ ২০২৬: আধুনিক পোশাক ও টেক্সটাইল প্রযুক্তি, অটোমেশন এবং স্মার্ট মেটেরিয়ালস অ্যান্ড মেশিনারির প্রদর্শনী। ২৬তম ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার্ন অ্যান্ড ফ্যাব্রিক শো ২০২৬: বৈশ্বিক সোর্সিং সহজ করতে আন্তর্জাতিক মানের সুতা, কাপড়, ট্রিমস ও অ্যাকসেসরিজ সম্পর্কিত প্রদর্শনী। ৫৩তম ডাই + কেম বাংলাদেশ ২০২৬: টেকসই ও পরিবেশবান্ধব টেক্সটাইল উৎপাদনে প্রয়োজনীয় ডাইস্টাফ ও স্পেশালটি কেমিক্যালসের প্রদর্শনী।

বৈশ্বিক টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের পরিবর্তিত বাস্তবতার কারণে এবারের প্রদর্শনী বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখন টেকসই উৎপাদন, পণ্যের উৎস ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, দ্রুত সরবরাহ, সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা, উৎপাদনে নমনীয়তা প্রভৃতির ওপর গুরুত্ব প্রদান করছেন। একই সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন ব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল উৎপাদন প্রযুক্তি এবং তথ্যনির্ভর উৎপাদন বিশ্বব্যাপী শিল্পের ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করছে। এই পরিবর্তনশীল বাস্তবতায় টেক্সটাইল সিরিজের ২৫তম বাংলাদেশ সংস্করণ - বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পকে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, উপকরণ, জ্ঞান এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের সঙ্গে যুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

এ প্রদর্শনীসমূহ সেমস-গ্লোবাল ইউএসএ আয়োজিত টেক্সটাইল সিরিজ অফ এক্সিবিশনের একটি অংশ; যা প্রতি বছর বাংলাদেশ, ব্রাজিল, মরক্কো, থাইল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হয়। টেক্সটাইল সিরিজ অফ এক্সিবিশন্স ইতোমধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল শিল্পের অগ্রগতিতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে। প্রদর্শনীসমূহে ২২৪৫ এর অধিক বুথসহ ৩৭টি দেশের প্রায় ১৪৭৫টির বেশি কোম্পানি অংশগ্রহণ করবে। আয়োজকেরা আশা করেছেন, প্রদর্শনীতে ১৬,০০০-এর বেশি ব্যবসায়িক দর্শনার্থীর সমাগম হবে।

ঢাকায় অনুষ্ঠেয় চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক এ প্রদর্শনীসমূহে দেশি-বিদেশি প্রস্তুতকারক, কারখানার মালিক, প্রধান নির্বাহী, উৎপাদন ব্যবস্থাপক, মার্চেন্ডাইজার, সোর্সিং কর্মকর্তা, বায়িং হাউস, প্রকৌশলী, ডিজাইনার, আমদানিকারক, পরিবেশক ও আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের অংশগ্রহণে একটি আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক মিলনমেলা তৈরি হবে। এর মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তি মূল্যায়ন, পণ্য ও কাঁচামাল সংগ্রহ, নতুন সরবরাহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক তৈরি এবং দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া, প্রদর্শনীসমূহ টেক্সটাইল শিল্প-সংশ্লিষ্ট বৈশ্বিক নির্মাতাদের সাথে প্রত্যক্ষভাবে একই ছাদের নিচে নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ প্রদান করবে।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান সেমস-গ্লোবাল ইউএসএ, নিউইয়র্ক ভিত্তিক একটি পেশাদার বহুজাতিক প্রদর্শনী ও সম্মেলন আয়োজক সংস্থা। সেমস-গ্লোবালের কার্যক্রম বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশে বিস্তৃত। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি শিল্পখাত, উৎপাদক, সরবরাহকারী, ক্রেতা, ব্যবসায়িক সংগঠন ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। এর মাধ্যমে ব্যবসা সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, বিনিয়োগ, সোর্সিং এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হয়। সেমস-গ্লোবালের টেক্সটাইল সিরিজ অব এক্সিবিশন্স এশিয়া, আফ্রিকা ও বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন ও সোর্সিং অঞ্চলের টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পের জন্য একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে উঠেছে।

উল্লেখ্য, প্রদর্শনীগুলোর পাশাপাশি ৪টি আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। সেমিনারসমূহে টেক্সটাইল শিল্পের সর্বশেষ প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, টেকসই উৎপাদন, সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হবে। এবারের এক্সিবিশনে বিশেষ সংযোজন হিসেবে হল বি-তে থাকবে ‘ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন জোন’ - বস্ত্র ও পোশাকশিল্পে প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন, দক্ষতা বৃদ্ধি ও স্মার্ট ব্যবস্থাপনার সম্ভাবনা এ জোনে তুলে ধরা হবে।

গার্মেন্টস শিল্পের সর্ববৃহৎ এ প্রদর্শনীসমূহ আগামী ২-৫ সেপ্টেম্বর চার দিনব্যাপী প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার (বাণিজ্যমেলা প্রাঙ্গণ), পূর্বাচল, ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনীসমূহ উন্মুক্ত থাকবে। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন: www.cems-textileseries.com, www.cems-textech.com, www.cems-yarnandfabric.comwww.cems-dyechem.com ওয়েবসাইটে কিংবা যোগাযোগ করুন +8801711396000 নম্বরে।

No comments

Powered by Blogger.