দ্যা ডেইলি এজুখেইশনে বিজ্ঞাপন দিতে কল করুন

+88 01521 20 70 54 (Call for Ad)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত “ডাকঘর” নাটকের মূল বক্তব্য, কাহিনী সংক্ষেপ ও চরিত্রাবলি। লিখেছেন- মো. এনামুল হাসান কাওছার




রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত “ডাকঘর” নাটকের মূল বক্তব্য-

কুসংস্কারাপন্ন সমাজের তথাকথিত শাস্ত্রীয় জ্ঞান আর অপব্যাখ্যার বিপরীতে শারীরিক বদ্ধতায় ক্লান্ত অথচ তিমিরবিদারী সৌন্দর্য পিয়াসি স্বপ্নঘোর উদ্ভাবনীর নিরিখে এক কোমল হৃদয়ের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা তথা প্রাণধর্ম ও জড়ধর্মের সামগ্রিক দ্বন্দ্বই 'ডাকঘর' নাটকের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।



ডাকঘর” নাটকের কাহিনী সংক্ষেপ-

'ডাকঘর - The Post Office' বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (২৫ বৈশাখ, ১২৬৮ - ২২ শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) রচিত প্রাণধর্ম ও জড়ধর্মের দ্বান্দ্বিকতা সম্বলিত অন্যতম সাঙ্কেতিক নাটক।
নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র 'অমল' নামের ৬/৭ বছরের ছেলে, যার সুদূরপ্রসারী সৌন্দর্য অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টিভঙ্গি ভাঙতে চায় চিরাচরিত ক্রমবর্ধমান নিস্তব্ধ সমাজের চাপিয়ে দেয়া দৃঢ়কায় কারাবরণের ন্যায় আচ্ছন্নতার বেড়াজাল।

শাস্ত্রবেত্তা কবিরাজের বায়ুশূন্য আলোবাতাস বর্জিত আবদ্ধকরণী চিকিৎসাপদ্ধতির প্রগাঢ়তায় অতি শীঘ্রগতিতে ক্ষয় অবসন্নতা ও প্রতীকী মৃত্যুযাত্রায় অগ্রসর হয় অমলের দেহ কিন্তু মনস্তাত্ত্বিক স্বপ্নবৎ মুক্তির ব্যঞ্জনা আর সীমাহীন পৃথিবীরূপের স্নিগ্ধতা অমলকে আহবান জানায় সাদরে।

অথচ, এই উদ্ভাবনী আকাঙ্ক্ষায় সাড়াহীন নিস্তব্ধ পুঁথিগতবিদ্যায় প্রাজ্ঞ কবিরাজ, গ্রামের মোড়ল এমনকি পালকপিতা মাদব দত্ত। তবে তার আকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রকাশিত সত্ত্বার মুক্তি পাবার অনুঘটক ঠাকুরদা(ফকির) আর সৌন্দর্যে স্নিগ্ধ অনুভূতি সঞ্চারিকা সুধা।

ডাকহরকরার কাজ নিয়ে অমল নতুন নতুন রাজ্যে সুন্দরের সন্ধানে আপনমনে ঘুরে বাড়াবে এ স্বপ্ন সে লালন করে, পালকপিতা মাদব দত্তও লোভাতুর হয়ে অমলের মাধ্যমে রাজার কাছ থেকে ধনসম্পদ অর্জনে আগ্রহী; রাজার চিঠির জন্য অপেক্ষারত অমলের মুক্তিপত্রই রচিত হয় চিরনিদ্রায় আর সৌন্দর্য অনুসন্ধিৎসু চিত্ত সন্ধান পায় এক পরিপূর্ণ সৌন্দর্যের।

চরিত্রাবলি-

মাধব দত্ত
অমল, মাধব দত্তের পালিত শিশু
সুধা, ফুল-সংগ্রহকারী ছোট মেয়ে
ফকির (ঠাকুরদা)
কবিরাজ
দইওয়ালা
প্রহরী
গ্রামের মোড়ল
রাজদূত
রাজকবিরাজ
ছেলের দল

ডাকঘর-

(ডাকঘর, ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাটক। মোট তিনটি দৃশ্যে ও ৩৯৯টি সংলাপে সমগ্ৰ নাটকটি রচনা করা হয়েছে।)

লিখেছেন-
মো. এনামুল হাসান কাওছার,
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

No comments

Powered by Blogger.