আবুল মাল আবদুল মুহিত (২৫ জানুয়ারি ১৯৩৪- ৩০ এপ্রিল ২০২২) এর জীবনালেখ্য

 


মরহুম আবুল মাল আবদুল মুহিত (২৫ জানুয়ারি ১৯৩৪- ৩০ এপ্রিল ২০২২) ছিলেন লেখক, গবেষক, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ প্রশাসক, পরিবেশবিদ ও অর্থনীতিবিদ। কৈশোরে ছাত্র সংগঠন এবং ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং ১৯৫৫ সালে সলিমুল্লাহ ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি ও সর্বদলীয় কর্মপরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে কিছুদিন জেলে কালাতিপাত করেন। মেধায় শীর্ষ অবস্থানে আসীন এই ছাত্রনেতা পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসের সদস্য হিসেবে কর্মজীবনের সূচনা করেন।

পূর্ব-পাকিস্তান এবং কেন্দ্রীয় পাকিস্তান সরকারের প্রায় ১৩ বছর চাকুরি করে তিনি ওয়াশিংটনে পাকিস্তান দূতাবাসে অর্থনৈতিক কাউন্সিলর হিসেবে নিযুক্তি পান ১৯৬৯ সালে। সেখান থেকে ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে মার্কিন কূটনৈতিক, শিক্ষামহল ও সংবাদ মাধ্যমে তিনি ছিলেন একজন সৈনিক। ২৫ বছরের সরকারি চাকুরি জীবনে তিনি পূর্ব পাকিস্তানে বাগেরহাটে মহকুমা কর্মকর্তা, গভর্নরের উপসচিব ও সচিবালয়ে উপসচিব, পাকিস্তানের মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে উপসচিব, আমেরিকায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মিনিস্টার ও চার্জ দ্য এ্যাফেয়ার্স, ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক, ম্যানিলায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকে নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব হিসেবে স্বেচ্ছা অবসরে যান ১৯৮১ সালে। ১৯৮২ এবং ১৯৮৩ সালে তিনি বাংলাদেশে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী ছিলেন এবং ESCAP এর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। প্রায় আড়াই দশক তিনি একজন উন্নয়ন পরামর্শক হিসেবে বিরাজ করেন। এই সময় তিনি বাংলাদেশে পরিবেশ আন্দোলন গড়ে তোলেন প্রথমে 'পরশ-এর সভাপতি এবং পরে 'বাপা'-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ্যালামনাই এসোসিয়েশনেরও সভাপতি ছিলেন। ২০০১ সালে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হন। ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে ২০০৯-১৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী। ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে সফলতার সাথে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তার লেখালেখির বিষয় ছিলো ইতিহাস, অর্থনীতি, প্রশাসন, ভ্রমণ, পরিবেশ, রাজনীতি এবং সুশাসন। ইংরেজি এবং বাংলায় প্রকাশিত তার বইয়ের সংখ্যা বিশ-এর উর্ধে।

নিবেদনে: প্রতিভা বিকাশ বাংলাদেশ। 

No comments

সর্বশেষ আপডেট

ড. এ কে আব্দুল মোমেন এর জীবনালেখ্য

Powered by Blogger.